🎉 Launch offer: প্রথম ৩ মাস ৩০% off। Code: LAUNCH30 

একই ব্যবসা — কারো লাগে ১০ লাখ, কারো ২০ হাজার

Boneek টিম

June 1, 2026

৮ মিনিট পড়া

এই লেখায় যা আছে

 

একই ব্যবসার দুই রাস্তা — গুদামভর্তি পুঁজির ঝুঁকি বনাম ঘরে বসে অল্প পুঁজিতে অনলাইন ব্যবসা

দুইজন মানুষ একই জিনিস বিক্রি করে — ধরুন শীতের হুডি। একই Facebook ad, প্রায় একই দাম, কাছাকাছি বিক্রি।

একজনের পেছনে খরচ হলো ১০ লাখ টাকা। আরেকজনের ২০ হাজার

পার্থক্যটা কোথায় জানেন? টাকায় না। দুজনের পকেটে কত পুঁজি ছিল, সেটা এই গল্পের আসল ব্যাপারই না।

“ই-কমার্স শুরু করতে কত টাকা লাগে” — এই একটা প্রশ্ন বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রেখেছে। কারণ তারা উত্তরটা ভুল জায়গায় খোঁজে। শেষে আমি দেখাব, ঠিক একটা সিদ্ধান্তেই পুরো খরচটা ১০ লাখ থেকে ২০ হাজারে নেমে আসে — আর সেই সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি আপনার হাতে।

কিন্তু তার আগে দেখা দরকার, ওই ১০ লাখ টাকাটা আসলে যায় কোথায়।

১০ লাখ টাকা আসলে কোন কোন খাতে গলে যায়

ধরুন আপনি ঠিক করলেন, দিনে ১০০টা order সামলাবেন এমন একটা ব্যবসা দাঁড় করাবেন — পুরনো নিয়মে। হিসাবটা একটু করি।

প্রতিটা পণ্যের কেনা দাম মোটামুটি ৭০০ টাকা ধরলে, ১০০ পিসেই চলে যায় ৭০ হাজার। কিন্তু একদিনের stock দিয়ে তো ব্যবসা চলে না। অন্তত পাঁচ দিনের মাল হাতে রাখতে হয়। চকবাজার থেকে এক লট তুলে গুদামে রাখলেন, আর সেখানেই আটকে গেল সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা।

আর এটা তো শুধু যে পণ্যগুলো চলছে সেগুলোর হিসাব।

বাস্তবে আপনি যা কিনবেন, তার সব চলবে না। কিছু পণ্য তাকে পড়ে থাকবে — সেই জমে থাকা slow stock-এ আরও চার-পাঁচ লাখ। এর সাথে যোগ করুন order confirm করার জন্য দুই-তিনজন লোকের বেতন, packing-এর লোক, ছোট একটা office, আর প্রতিদিনের Facebook ad। সব মিলিয়ে অনায়াসে দশ লাখ ছুঁয়ে ফেলে।

পুরনো নিয়মে মোটামুটি হিসাব

চলতি পণ্যের stock~৩.৫–৪ লাখ
জমে থাকা / slow পণ্য~৪–৫ লাখ
Call center + packing + officeমাসিক fixed খরচ
Ad budget (কয়েক দিনের)৩০–৪০ হাজার
Website, hosting, softwareআলাদা
মোট≈ ১০ লাখ

একটা জিনিস খেয়াল করেছেন? এই পুরো তালিকার সবচেয়ে বড় দুইটা অংকই inventory। মানে, পণ্য কিনে রাখা।

আর এখানেই আসল খেলাটা।

সবচেয়ে বড় খরচটা আসলে “খরচ” না — ঝুঁকি

একটা পার্থক্য বোঝা খুব দরকার।

Office ভাড়া বা কর্মীর বেতন — এগুলো সত্যিকারের খরচ। দিয়ে দিলেন, শেষ। কিন্তু inventory-তে রাখা ৮ লাখ টাকা খরচ না। ওটা আপনার আটকে থাকা টাকা। গুদামের তাকে চুপচাপ ঘুমিয়ে থাকা টাকা।

পণ্য বিক্রি হলে ওই টাকা ফেরত আসে। না হলে?

ধরুন একটা পণ্যের ২০০০ পিস আনলেন, বিক্রি হলো ৫০০। বাকি ১৫০০ পিস বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে রইল। টাকাটা মরে গেল না, কিন্তু ঘুমিয়ে গেল। আপনি ওটা আর নতুন marketing-এ দিতে পারছেন না, নতুন পণ্যে দিতে পারছেন না, সংসারেও না।

বাংলাদেশে বেশিরভাগ ই-কমার্স ব্যবসা টাকার অভাবে বন্ধ হয় না। বন্ধ হয় এই কারণে — তিন-চারটা ভুল পণ্য কিনে পুরো পুঁজি গুদামে আটকে ফেলে, আর সেখান থেকে আর উঠে দাঁড়াতে পারে না।

তাই আসল প্রশ্নটা “কত টাকা লাগে” না — “টাকাটা কোথায় গিয়ে আটকায়”।

এই জায়গাটা ধরতে পারলেই পরের প্রশ্নটা নিজে থেকে আসে: যদি পণ্যটা আগে কিনতেই না হতো?

যে মডেলে পণ্য আগে কিনতে হয় না

এখানেই dropshipping।

ব্যাপারটা সহজ। আপনার একটা অনলাইন স্টোর থাকবে, সেখানে পণ্য সাজানো — কিন্তু সেই পণ্য আপনার গুদামে নেই। কেউ order করলে তখন supplier সরাসরি কাস্টমারের কাছে পাঠায়। আপনি মাঝখান থেকে শুধু লাভটা রাখেন।

কোনো আগাম মাল কেনা নেই। গুদাম নেই। ভুল পণ্যে টাকা আটকানোর ভয় নেই।

ড্রপশিপিং যেভাবে কাজ করে

কেউ আপনার স্টোরে order করে।
Supplier সরাসরি কাস্টমারের কাছে পণ্য পাঠায়।
কাস্টমার পণ্য পায়, আপনি শুধু লাভটা রাখেন।

আপনার কাজ থাকে আসলে দুইটা: কোন পণ্য মানুষ কিনবে সেটা বোঝা, আর ভালো করে marketing করা। (এই দুইটাই শেখার জিনিস — কোন পণ্য দিয়ে শুরু করবেন আর অল্প বাজেটে কীভাবে ad test করবেন, দুটো নিয়েই আলাদা গাইড আছে।)

আগে এই মডেলেও একটা ঝামেলা ছিল — স্টোর বানানো, supplier খোঁজা, order আর courier আলাদা আলাদা সামলানো। বাংলাদেশে এগুলো এক জায়গায় পাওয়া যেত না।

এখন যায়। আমি নিজে যেটা সহজ পেয়েছি সেটা হলো বণিক — বাংলাদেশের COD ব্যবসার কথা মাথায় রেখে বানানো। কোডিং ছাড়াই মিনিটে স্টোর হয়, ভেতরেই পণ্যের sourcing থাকে, আর order এলে কুরিয়ার পর্যন্ত পুরোটা এক জায়গা থেকে চলে। মূল কথা হলো, এই পুরো setup-টা এখন আর আলাদা করে দাঁড় করাতে হচ্ছে না।

তাহলে এবার আসল হিসাবটা — খরচ দাঁড়ায় কত?

২০ হাজার টাকার হিসাবটা

এই মডেলে আপনার বড় খরচ মাত্র দুইটা।

এক, platform-এর subscription — ছয় মাসের জন্য মোটামুটি দশ হাজারের মধ্যে। দুই, Facebook ad-এর বাজেট — শুরুতে দশ হাজার টাকা দিয়ে test করাই যথেষ্ট।

ব্যস। দুইয়ে মিলে বিশ হাজারের আশেপাশে।

কোনো inventory না, গুদাম না, office না, কর্মী না। যে আট-নয় লাখ টাকা আগে গুদামে ঘুমিয়ে থাকত, সেটা এখানে নেই-ই।

আর একটা মজার ব্যাপার আছে। COD ব্যবসায় আপনি আজ যে টাকায় ad দিচ্ছেন, সেই বিক্রির টাকা দুই-তিন দিনের মধ্যে courier থেকে ফেরত চলে আসে। মানে টাকাটা ঘুমিয়ে থাকে না, ঘুরতে থাকে:

ad
বিক্রি
টাকা ফেরত
আবার ad

শুরুর বিশ হাজারের পর ব্যবসাটা অনেকটা নিজের পায়ে চলতে শুরু করে।

এবার সৎ কথাটা বলি, কারণ সেটাই আপনার বেশি দরকার।

এই বিশ হাজার কোনো জাদুর বোতাম না। পণ্য ভুল বাছলে বা marketing দুর্বল হলে এখানেও টাকা যাবে। COD-তে ৫ থেকে ২০ ভাগ পণ্য return আসে, সেটাও হিসাবে রাখতে হবে। কিন্তু এই ঝুঁকিগুলো আগে থেকে জানা থাকলে চমকে দেয় না, শুরুতেই পরিকল্পনায় ধরা থাকে। পার্থক্যটা শুধু একটাই — আপনি যে টাকা নিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন সেটা বিশ হাজার, দশ লাখ না। ভুল করলে শিখে আবার দাঁড়ানো যায়। দশ লাখে ভুল করলে অনেকের আর দ্বিতীয় সুযোগটাই থাকে না।

তাহলে আসল পার্থক্যটা কী

মনে আছে, শুরুতে বলেছিলাম শেষে একটা সিদ্ধান্তের কথা বলব?

এই সেটা।

ওই দুইজন মানুষ — যাদের একজনের লাগল ১০ লাখ, আরেকজনের ২০ হাজার — তাদের পার্থক্য ব্যাংকে কত টাকা ছিল তাতে না। পার্থক্য ছিল একটা সিদ্ধান্তে: পণ্য আগে কিনব, নাকি অর্ডার আসার পর।

প্রথমজন পুরনো রাস্তায় গেছে — মাল কিনে, গুদাম ভরে, ঝুঁকিটা পুরো নিজের কাঁধে নিয়ে। দ্বিতীয়জন শুধু মডেলটা বদলেছে। এতটুকুই।

তাই “আমার তো অত টাকা নেই” — এই লাইনটা আজ থেকে বাদ দিন। আপনি ভীতু না, অলসও না। আপনি শুধু এতদিন একটা ভুল হিসাব শিখে এসেছেন, যেখানে ব্যবসা মানেই ছিল মোটা পুঁজি।

যারা আজ ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসা চালাচ্ছে, তারা আপনার চেয়ে বেশি সাহসী বা বেশি ধনী ছিল না। তারা শুধু ছোট করে, কম ঝুঁকিতে শুরু করেছিল। শুরু করেছিল বলেই আজ এগিয়ে আছে।

শুরু করার সময়

আপনি যদি সত্যিই এই কম-ঝুঁকির রাস্তাটায় হাঁটতে চান, তাহলে সবচেয়ে কঠিন অংশটা — স্টোর, পণ্যের সোর্স, অর্ডার আর কুরিয়ার এক জায়গায় গুছিয়ে শুরু করা — সেটা এখন আর কঠিন নেই। নিচে শুধু আপনার নাম, WhatsApp নম্বর আর ইমেইলটা দিন। বিশ হাজার টাকায় পুরো ব্যবসাটা কীভাবে দাঁড় করাবেন, সেটা গুছিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হবে — কোনো চাপ নেই। স্বপ্নটা তো অনেকদিন দেখছেন। আজ শুধু একটা ছোট ধাপ সামনে বাড়ান।

নিচে ফর্ম পূরণ করুন

আপনার ব্যবসা গুছিয়ে শুরু করতে চান?

অর্ডার, কুরিয়ার, রিটার্ন আর হিসাব — বণিকে সব এক জায়গায়। নিচে তথ্য দিন, আমাদের টিম WhatsApp-এ আপনার সাথে কথা বলে সব বুঝিয়ে দেবে।

শত শত উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে বণিক দিয়ে শুরু করেছেন।
ফর্ম দিলেই টিম যোগাযোগ করবে — কোনো চাপ নেই, কোনো কার্ড লাগবে না।

বণিক — বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য তৈরি।

লেখাটি শেয়ার করুনঃ

আরও পড়ুন

একই ব্যবসা — কারো লাগে ১০ লাখ, কারো ২০ হাজার

দুইজন মানুষ একই জিনিস বিক্রি করে — ধরুন শীতের হুডি। একই Facebook ad, প্রায় একই দাম, কাছাকাছি

৫০ হাজার টাকার কম পুঁজিতে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার উপায়

আপনি এক মাসে ১০০টা অর্ডার পাঠালেন। ৭০টা ডেলিভারি হলো, ৩০টা ফেরত এলো। বেশিরভাগ seller এই ৩০টা রিটার্নকে

অর্ডার কনফার্ম কল: যেভাবে করলে রিটার্ন প্রায় অর্ধেকে

আপনি এক মাসে ১০০টা অর্ডার পাঠালেন। ৭০টা ডেলিভারি হলো, ৩০টা ফেরত এলো। বেশিরভাগ seller এই ৩০টা রিটার্নকে

কুরিয়ার রিটার্ন কেন আপনার লাভ খেয়ে ফেলছে — আর কীভাবে কমাবেন

আপনি এক মাসে ১০০টা অর্ডার পাঠালেন। ৭০টা ডেলিভারি হলো, ৩০টা ফেরত এলো। বেশিরভাগ seller এই ৩০টা রিটার্নকে